নায়ক অ্যান্ডি ডুফ্রেনের সেই উক্তি মনে আছে বিখ্যাত সিনেমা শশাঙ্ক রিডেম্পশনের ? জেলে থাকা ডুফ্রেন তার বন্ধুকে বলতেন, ‘আশা ভালো জিনিস। সম্ভবত সবচেয়ে ভালো জিনিস। আর ভালো জিনিস কখনো মরে যায় না।’মরক্কোকে নিয়ে এসেছিল সেমিফাইনালে বিশ্বকাপে ভালো করার আশাই । কিন্তু সিনেমার ডুফ্রেন তার আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলেও মরক্কো হার মানলো ফ্রান্সের অভিজ্ঞতার কাছে। সেমিফাইনালে উত্তর আফ্রিকার দেশটিভালো খেলেছে । শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি। মরক্কোকে ২-০ গোলে কাঁদিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে রোববার তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট নিয়ে একটা জরিপ হয়। মরক্কোর ফাইনাল খেলার পক্ষে দর্শক ভোট পড়ে মাত্র ০.০১%। আফ্রিকার একটি দেশ, যারা এর আগে মাত্র একবারই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলতে পেরেছে, তাদের পক্ষে বাজির রেট কম থাকাই স্বাভাবিক।

কিন্তু ক্ষীণ আশা নিয়ে যারা ভোট দিয়েছিলেন, মরক্কো তাদের হতাশ করেনি। ফাইনালে যেতে না পারলেও ওয়ালিদ রেগরাগির শিষ্যরা সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছে। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে তাদের এ কীর্তি কম কীসে! মরক্কো দেশে ফিরবে মাথা উঁচু করেই । তবে পুরো আরব ও আফ্রিকার দশর্করা চেয়েছিল মরক্কো ফাইনালে যাক। গতকাল আল বাইত স্টেডিয়ামের সিংহভাগ সমর্থন পেয়েছিলেন আশরাফ হাকিমি-হাকিম জিয়াশরা। কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মরোক্কান দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। রাফায়েল ভারানের পাস ধরে ডি-বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন আঁতোয়ান গ্রিজম্যান। বল বাড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। তার শট দু’বার প্রতিহত হলেও রিবাউন্ডে বল পেয়ে যান থিও হার্নান্দেজ। এসি মিলানের এই ডিফেন্ডার পরাস্ত করেন মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে। আসরে মরক্কোর জালে বল পাঠানো প্রথম খেলোয়াড় হার্নান্দেজ। এর আগে গ্রুপপর্বে একটি গোল হজম করেছিল মরক্কো। তবে গোলটি ছিল আত্মঘাতী। হার্নান্দেজের গোলটি ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্রুততম। ৫৮’র আসরের সেমিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেছিলেন ব্রাজিলের ভাভা।
দশম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারতো মরক্কো। আজেদিন ওনাহির দূরপাল্লার বাঁকানো শট ডানপাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিস।  ১৭তম মিনিটে জিরুর শট বাঁ পাশের পোস্টে প্রতিহত হয়। আনফিট হয়েও এ ম্যাচে খেলতে নামেন  মরক্কোর অধিনায়ক রোমান সাইস। ২১তম মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই ডিফেন্ডার। ৩৬তম মিনিটে জিরুর নেওয়া শট অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি। শেষদিকে বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ শানায় মরক্কো। ৪৫তম মিনিটে সমতাসূচক গোলটি প্রায় পেয়েই গিয়েছিল তারা। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর থেকে জাওয়াদ আল ইয়ামিকের ওভারহেড কিক আঘাত হানে বাঁ পাশের পোস্টে।  
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিট একচেটিয়া খেলে মরক্কো। বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরিও করে তারা। ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পাওয়া হয়নি। উল্টো ৭৯তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে মরক্কো। উসমান দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেন র‌্যান্ডাল কোলো মুয়ানি। প্রথম গোলেই রেকর্ড। বিশ্বকাপের ম্যাচে বদলি নেমে মুয়ানির চেয়ে কম সময়ে গোল করেছেন শুধু ডেনমার্কের এবে সান্দে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৬ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন তিনি। এতেই টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *