পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইসলামাবাদ, পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা মোতায়েন করেছে সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আন্দোলনকারীদের সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, যে কোনো ‘দাঙ্গাবাজদের’ কঠিন হাতে দমন করা হবে। এ খবর দিয়েছে ডন।

খবরে বলা হয়, চলমান সহিংসতা প্রসঙ্গে বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ। এসময় তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধীদের আইন হাতে তুলে নেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। কথা না শুনলে তাদেরকে কঠিন হস্তে দমন করা হবে। মাতৃভূমি এবং এর আদর্শ রক্ষা করা আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। আমরা এই দাঙ্গাকারীদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা সফল হতে দেব না। 

ইমরান খান ছাড়া অন্য কোনো নেতা গ্রেপ্তার হলে তিনি সেটাকে সুখবর হিসাবে নিতেন না। কিন্তু ইমরান খানের দল কখনোই আইন মেনে চলতে চায়নি। বরঞ্চ তারা স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত স্থাপনায় হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে।  দেশের সাথে শত্রুতা করার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন মানেই সব মামলা আইনিভাবে মোকাবিলা করা। তা না করে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল। দেশের ৭৫ বছরের ইতিহাসে আমরা এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির বিরুদ্ধে আক্রমণ দেখিনি যা এখন পিটিআই কর্মীরা করছে। তারা শত্রুদের মতো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, রাস্তা এবং যানবাহন অবরোধ করেছে, অ্যাম্বুলেন্স ভস্মীভূত করেছে এবং সোয়াত মোটরওয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। আইনের কাছে সবাই সমান। এগুলি হল ইসলামী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি পিটিআই চেয়ারম্যানকে এনএবি মামলা আইনিভাবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। 

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ‘পিটিআই কর্মীদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য’ সেনাবাহিনী, রেঞ্জার্স এবং পুলিশের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানিরা পিটিআই’কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ জন্য তিনি দেশের মানুষদের ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, এনএবি ইমরান খানকে দুর্নীতির মামলায় জড়িত থাকার জন্য আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করেছে। আমাকে ও আমার মেয়েকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তখন আমরা পরিপক্কতা দেখিয়েছিলাম। আপনারাও পরিপক্কতা দেখান এবং রাষ্ট্র বিরোধী বিক্ষোভ বন্ধ করুন। 

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, আমি পিটিআইকে অনেকবার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিশেষ করে এনএবি আইনে সংশোধনী এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে আলোচনা সহ জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য। কিন্তু তিনি শুধু শাসকদের চোর এবং লুটেরা বলে গিয়েছেন। শেহবাজ বলেন, বর্তমান সরকার আসামির শারীরিক রিমান্ডের মেয়াদ ৯০ থেকে ১৪ দিনে কমিয়ে এনেছে। পাশাপাশি আসামির আপিলের অধিকার দিয়ে এনএবি আইন সংশোধন করেছে। ইমরান খানই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই সংশোধনীর সুবিধা পেলেন।

মানবজমিনথেকে সংগৃহীত.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *